নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।শনিবার দিবাগত রাত চারটার দিকে রাজধানীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে জমির উদ্দিন সরকারের মরদেহ তাকওয়া মসজিদে গোসলের জন্য নেওয়া হবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে জমির উদ্দিনের ধানমন্ডির বাসায়।
তবে জানাজা ও দাফনের কর্মসূচি পরে জানানো হবে বলে জানান শায়রুল কবির খান।১৯৩১ সালে ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ অনার্স, এমএ ও পরবর্তীকালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করেন। পরে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল সনদ লাভ করেন।
তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। তার ছেলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নওশাদ জমির ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হন।
জমির উদ্দিন সরকার ১৯৪৫ সালে ছাত্র থাকা অবস্থায় তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের সমর্থক ছিলেন। তিনি আওয়ামী মুসলিমের লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মাওলানা ভাসানীর সহচর।
আইন পেশায় সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তাকে পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। দল গঠনের প্রথম পর্যায়ে জিয়াউর রহমান জাগদল গঠন করলে তিনি তাতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য। পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।
জমির উদ্দিন সরকার ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন দিনাজপুর-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদে বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন
জমির উদ্দিন সরকার ১৯৮১ সালের ৬ এপ্রিল থেকে ১৯৮১ সালের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বর্তমান সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন।
আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় ১৯৮১ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পঞ্চম জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় ২০ মার্চ ১৯৯১ থেকে ২৮ আগস্ট ১৯৯১ পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী, ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ থেকে ১৯ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে গঠিত স্বল্পকালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ৩০ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।













