পঞ্চগড় প্রতিনিধি: নিজের দায়িত্ববোধের এক নজির স্থাপন করেছেন স্বাস্থ্যকর্মী মেহেরুন নেহার লিলি। তিনি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাজীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কর্মরত। তার একনিষ্ঠ দায়িত্ব সেবার ফলে তার কাছেই ছুটে যান প্রসুতি মায়েরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন মেহেরুন নেহার লিলি। ২০১৪ সালে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ছয় মাসের কমিউনিটি স্কিলড বার্থ অ্যাটেনডেন্ট (সিএসবিএ) প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৫ সালের শুরু থেকে স্বাভাবিক প্রসবসেবা চালু করেন।এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের একটি কক্ষে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন লিলি। শিশুদের নিয়ে এসেছেন অনেক মা। গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ সবই চলছে একসঙ্গে।১৯৯৮ সালে স্থানীয় বাসিন্দা রমিনা খাতুনের দেওয়া জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কাজীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক। ওইক্লিনিকটির অবস্থান তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আনুমানিক ২০ কিলোমিটার দুরে এব পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার। ওই এলাকার প্রসুতি নারীরা আস্থা ও বিশ্বাস নিে য় ছুটে আসেন তার কাছে। মেহেরুন নাহার লিলি হচ্ছে আস্থা আর বিশ্বাসের প্রতীক।
প্রথম প্রসব করানোর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মেহেরুন নাহার লিলি বলেন, প্রথম ডেলিভারীর সময় খুব ভয় কাজ করছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এক ঘণ্টার মধ্যেই সুস্থভাবে বাচ্চার জন্ম হয়। ওই সফলতার পরেই আমার আত্মবিশ্বাস অনেকটা বেড়ে যায়। এরপর নিজেকে তৈরি করে নেই। যদি ও শুরুর দিকে কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও মানুষ আমার উপড় আস্থা পায়। পর্যায়ক্রমে নরমাল ডেলিভারীর বাড়তে থাকলে এখন দূরূুরান্ত প্রসুতি নারীরা এখন আমার এই ক্লিনিকে চলে আসেন।এখন পর্যন্ত তার করানো নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা ১ হাজার ৫০০টিতে।
লিলি বলেন, আমি প্রতিটি মাকেই আগে থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দেই ও প্রসবব্যথা হলে দ্রুত যোগাযোগ করতে বলি। ঝুঁকিপূর্ণ রোগী হলে যথাসময়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। তবে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তখন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হয় । আর তাদের সন্তানদের যখন বড় হতে দেখি, তখন তাদের দেখে মনে হয়, তারা আমারই বাচ্চা। আসলে তাদের দেখে আমি অভিভ’ত হই।
স্থানীয় বাসিন্দা কুলসুম আক্তার বলেন, এই কমিউনিটি ক্লিনিক আমাদের গরীব মানুষের অনেক উপকার করে। এখানে নরমাল ডেলিভারী হয়, ও ষুধও পাওয়া যায়। বাইরে গেলে অনেক টাকা লাগে, এখানে সেই চাপ নেই।লিপা আক্তার বলেন, আমার দুটি সন্তানই এই ক্লিনিকে হয়েছে। এখানে কোনো বড় খরচ নেই। তাই এলাকার মানুষ নির্ভয়ে আসে।ওই একই এলকার মনসুর আলী বলেন, আমরা গরীব মানুষ। দূরে হাসপাতালে যাওয়া আমাদের পক্ষে বেশ কঠিন। আমরা ওতো টকা খরচ করতে পারিনা ।এই ক্লিনিক থাকায় আশপাশের মানুষ খুব উপকৃত হচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, পঞ্চগড় জেলায় ১১০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে কাজীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি নরমাল ডেলিভারী সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টান্ত রেখেছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিএসবিএ হিসেবে মেহেরুন নেহার লিলি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে ওই এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে দৃষ্টান্ত রেখেছেন। তার এই দাত্বিবোধ গর্ভবর্তী মায়েরা নিরাপদ প্রসব সেবাপাচ্ছেন। আমরা তার এই আন্তরিকতার দৃঢ় অবস্থানকে সন্মান জানাই।
















