লতা মন্ডল-সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত মো. ইলিয়াছ মোল্লা (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলা অটোস্ট্যান্ড ও কোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।নিহত ইলিয়াছ মোল্লা কোলা গ্রামের মৃত ইদ্রিস মোল্লার ছেলে। তিনি তিন মেয়ে ও দুই ছেলের জনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে শুক্রবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে ইলিয়াছ মোল্লা ও তার স্বজন ইসহাক মোল্লা গুরুতর আহত হন।
আহতদের প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ইলিয়াছ মোল্লাকে শ্যামলীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে বলেন, আমার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পরিকল্পিতভাবে হামলা করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িত দের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নিহতের স্ত্রী সাসছুন্নাহার বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচার চাই। হামলাকারীরা হঠাৎ করেই আমাদের ওপর আক্রমণ চালায়। আত্মরক্ষার সুযোগও পাইনি।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। কিন্তু এমন মর্মান্তিক ঘটনা কেউ আশা করেনি।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হাজী মোঃ আসাদ বলেন, এ ধরনের বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ আগেই নেওয়া হলে হয়তো প্রাণহানি এড়ানো যেত।স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ সাইজদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
শিক্ষক সায়মা আক্তার বলেন, জমি নিয়ে সংঘাতের কারণে একটি পরিবার আজ নিঃস্ব হয়ে গেল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।গৃহিণী মোর্সেদা বেগম বলেন, আমরা এলাকায় শান্তি চাই। দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মিন্টু প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহার ভুক্ত আসামী রওসান আরা বেগম ও তার ছেলে বিদ্যুৎ মোল্লা দুইজন আসামিকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছে।















