• Home
  • খেলা
  • শেষ দিকে পথ হারিয়ে বাংলাদেশের হার, সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার
Image

শেষ দিকে পথ হারিয়ে বাংলাদেশের হার, সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার

চট্টগ্রামের গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল, ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও। কিন্তু পারলো না বাংলাদেশ।জয়ের আশা জাগিয়েও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারতে হলো লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। চট্টগ্রামে ৭ রানের এই হারে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।

শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২৩ রান। ক্রিজে ছিলেন তাওহীদ হৃদয়।তবে শেষ পর্যন্ত সমীকরণটা মেলানো যায়নি। লড়াই করেও ৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

শুক্রবার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। কঠিন এই লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। কিন্তু ৪ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন।

দারুণ খেলতে থাকা তানজিদ, ম্যাথিউ রেনশর ধীরগতির আর্ম বলে সামনে এসে খেলতে গিয়ে বল তুলে দেন। রিটার্ন ক্যাচ নিয়ে তাকে সাজঘরের পথ দেখান রেনশ। তানজিদের বিদায়ের পর সাইফ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। এক উইকেট হারালেও পাওয়ার প্লেতে স্বাগতিকরা তুলে ফেলে ৭২ রান। পরের ওভারে অবশ্য সৌম্য সরকার ১৫ রান করে বিদায় নেন। এরপর সাইফ ও পারভেজ হোসেন মিলে শুরু করেন তাণ্ডব। ৩৬ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তারা।

এই জুটিতে বাংলাদেশ যখন জয়ের আশা করছিল, তখন অ্যারন হার্ডির অফ-কাটারে কভার দিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন পারভেজ। পেছনে দৌড়ে সহজেই ক্যাচটি নেন মার্শ। তাতেই ২২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় করা ৩৬ রানের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে পারভেজের।

সঙ্গীকে হারিয়ে স্কোরবোর্ডে আরও ৪ রান যোগ হতেই সাইফ ফেরেন সাজঘরে। ৩৩ বলে ৪২ রান করে তিনিই দলের সেরা ব্যাটার। শেষ ৫ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫৪ রান। তাওহীদ হৃদয় ও আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন মিলে চেষ্টা চালিয়েছেন। তাতে শেষ ওভারে ২৩ রানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ১ চার ও ১ ছক্কায় তারা নিতে পারেন ১৫ রান। শেষ বলে ছক্কা মারতে পারলেও সুপার ওভারে আরও একটি সুযোগ পেত বাংলাদেশ।

সেই চেষ্টা অবশ্য চালিয়ে ছিলেন তাওহীদ। কিন্তু হার্ডির ধীরগতির ফুলার লেংথ বলটি লং অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সীমানার কাছে সহজ ক্যাচ নিতেই বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৮৯ রানে। তাতেই ৭ রানে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ খোয়াতে হলো তাদের। তাওহীদ ২২ বলে ৩৫ রানে আউট হন। সাকলাইন ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। ৪৪ রানে তিন উইকেট হারালেও তার কোন প্রভাব পড়েনি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে। চতুর্থ উইকেটে ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড মিলে গড়েন ৫০ ওভারে ৯৭ রানের জুটি। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ে ছেলে খেলায় মেতে উঠেন এই দুই ব্যাটার। বিশেষ করে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ওভারে সুযোগ নিয়েছেন তারা। রিশাদের চতুর্থ ওভারে টানা তিন ছক্কা মারেন রেনশ।

১৫তম ওভারে ডেভিড আউট না হলে স্কোর দুইশো ছাড়িয়ে যেত অনায়াসেই। ২৬ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৬ রানে আউট হন ডেভিড। এরপর নিখিল চৌধুরী আউট হলেও রেনশ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের উপর দাঁড়িয়ে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন রেনশ।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুমেই সবচেয়ে সফল বোলার। ২৭ রানে তিনি শিকার করেন দুটি উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা, আব্দুল গাফফার ও মোস্তাফিজুর নেন একটি করে উইকেট। রিশাদ সবচেয়ে খরুচে বোলিং করেছেন। ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করে উইকেট শুন্য ছিলেন তিনি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »