• Home
  • আইন-আদালত
  • রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ মঙ্গলবার
Image

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ মঙ্গলবার

আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) শুরু হবে সাক্ষ্যগ্রহণ।সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হলো। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে মামলার আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। এরপর শুরু হয় শুনানি। এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাদের প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নিয়ে হাজতখানায় রাখা হয় তাদের।

গত ২৪ মে এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন বিচারক।

এর আগে ওই দিন বেলা পৌনে ৪টায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। এরপর অভিযোগপত্রটি ‘দেখিলাম’ উল্লেখ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেন আদালত। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। স্বপ্নাকে আটকের পর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুজনকে আসামি করে ওই দিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। ঘটনার দিনস সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পান তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। স্বপ্না সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানিয়েছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করে এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেয়। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল রানা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *