কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও কিশোর অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলার ১৮টি থানায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
এর ধারাবাহিকতায় রোববার সন্ধ্যা সাতটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা সর্বশেষ অভিযানে আরও ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে তিন দফার টানা অভিযানে মোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করল পুলিশ, যা জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে পরিচালিত রোববারের এই অভিযান প্রসঙ্গে কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডাস্থল এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের মধ্যে কারা প্রকৃত অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নির্দোষদের মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের এই কর্মকর্তার মতে, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একদিকে যেমন কুমিল্লাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে অপরাধপ্রবণতাও অনেকটা কমে এসেছে। তাই উঠতি বয়সীরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে এই অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে জেলা পুলিশ।
রোববার রাতের অভিযানে শুধুমাত্র কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকেই ৪৮ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আড্ডা দেয় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকাতেই মূল অভিযানটি পরিচালিত হয়। আটক ৪৮ জনের মধ্যে অন্তত চারজন বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের অতীত অপরাধের রেকর্ড ও বর্তমান কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত বুধবার ও শনিবার রাতেও কুমিল্লার ১৮টি থানায় একইভাবে একযোগে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। ওই দুই দিনের অভিযানে মোট ৮৭৮ জনকে আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ৫৯৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও, মাদক সেবন ও ব্যবসা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৮১ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিশেষ করে শনিবার রাতের অভিযানে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন ছিল নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী আনিসুর রহমান ওরফে আনিককে রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে শনাক্ত করেছিল পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানের ফলে জেলার সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক দূর হয়ে এক ধরনের স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।















