বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই ডিজেল কিন্তু বাংলাদেশকে কিনতে হয় ২৫০ টাকা পার লিটার। তাহলে আমাদের লোকসান হয় ৯০ টাকা। মূল্য সমন্বয়ের পূর্বে ডিজেলের মূল্য ছিল ১১৫ টাকা, তখন আমাদের ভর্তুকি যেত প্রায় ৯০ টাকা। পার লিটারে আমাদের ৯০ টাকা লোকসান দিতে হতো। এখন এই যে মূল্য সমন্বয় করে ২০ টাকা বাড়িয়ে মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে, তারপরেও ৭০ টাকা আমাদেরকে লোকসান দিতে হবে। এই সমন্বয় করার পরেও পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের যে দাম, সেই দাম এখনো বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের চলমান অপপ্রচারও কলঙ্কলেপনের কার্যক্রমের প্রতিবাদে দিক নির্দেশনা মূলক কর্মসূচি নিতে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়।
অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী বলেন, বিকল্প পন্থায় বা কিভাবে জ্বালানি কম টাকায় ব্যবস্থা করা যায়, সেটা বিরোধী দল যদি বলতেন, তা না করে লং মার্চ করেছেন। বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ তাদের দল নিয়ে এবং তারা যে ভাষা ব্যবহার করেছেন- বিএনপির প্রধানতম নেতাসহ সরকারের বিরুদ্ধে, এটা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সভ্য লোকের ভাষা হতে পারে না।
রিজভী বলেন, আজকে নানা বিষয় নিয়ে তারা কথা বলতে চাচ্ছে, কিন্তু এটার সমাধানের বিষয় আমরা বারবার বলেছি, আপনারা বলুন সমাধান কিভাবে করবেন? জ্বালানির সঙ্কট, গ্যাসের সঙ্কট, বিদ্যুতের সঙ্কট কিভাবে দূর করবেন? আপনার প্রতিদিন মধ্যপ্রাচ্যের যে যুদ্ধ- আমেরিকা, ইসরাইল এবং ইরানের যুদ্ধ; যত দিন যাচ্ছে, তত পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে। মূল জ্বালানির যে জাহাজগুলো আছে, তা ওই পথ দিয়ে- হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। তাহলে সেটার জন্য দায়ী কে? এটার জন্য দায়ী কি এই সরকার?
তিনি বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এই সরকার নানাভাবেই চেষ্টা করছেন, নিরন্তর চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস ও জ্বালানি নিয়ে এসে আমাদের ন্যাশনাল গ্রিডে সেটা সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এবং দেখেছেন যে আস্তে আস্তে আমাদের বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের যে সরবরাহ, সেটা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে এই সরকারের অত্যন্ত তীব্র প্রচেষ্টায়।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, হঠাৎ করে বিভিন্ন যানবাহনে আগুন দেয়া হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ কোনো গোপন কক্ষে শুধু পরাজিত শক্তি নয়, তার সাথেও আর কেউ কেউ হাত মেলাচ্ছেন কিনা- এটা জনগণের মধ্যে বড় করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের নেয়া পদক্ষেপগুলোকে ব্যঙ্গ করে নানাভাবে অপপ্রচার দিয়ে, মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, কখনোই কোনো অপপ্রচারে জনগণের কানকে ভারী করা যায় না।
উদাহরণ হিসেবে রিজভী বলেন, ১৭ বছর এক দানবসমতুল্য ফ্যাসিবাদ কায়েম ছিল, তারা তো সমস্ত মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে, কলঙ্ক লেপন করেছে। ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির প্রধানতম নেতৃবৃন্দ- যারা সম্মানিত, সমাদৃত গোটা জাতির কাছে তাদের বিরুদ্ধে তারা দিন-রাত অপপ্রচার করেছে তাদের সেই সময়ের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাতে কিছু কাজ হয়নি।
তিনি বলেন, একের পর এক জনস্বার্থের এবং জনগণের স্বার্থে যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হচ্ছে, সেখান থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দিতে চায়। সরিয়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সেখানে পতিত স্বৈরাচার থাকতে পারে এবং নানা আলামতে মনে হচ্ছে নতুন দোসররা একটা ভূগর্ভস্থ কোনো গোপন কক্ষে তারা বোধহয় হাত মেলাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। সুতরাং এই ব্যাপারে গোটা দেশবাসী সজাগ রয়েছেন, জনগণ সজাগ রয়েছেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীরা সজাগ রয়েছেন, দেশের সচেতন আবালবৃদ্ধবনিতা- আপামর মানুষ সজাগ রয়েছেন।














