ভারতের ঝাড়খণ্ডে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট থেকে বাংলাদেশে আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে টানা প্রায় ৮৪ ঘণ্টার বাড়তি চাপের পর দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ রোববার দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটি বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিসিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ইউনিটটি কিছুক্ষণ আগে গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তবে পূর্ণ উৎপাদনে যেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।’
আদানি পাওয়ারের একটি সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই আজ ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিটটি সফলভাবে চালু করা সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালুর প্রক্রিয়া শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ওই রাতে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।পরদিন শুক্রবার চাহিদা কম থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবে গতকাল মধ্যরাতে লোডশেডিং বেড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। ৮০০ মেগাওয়াটের এই ইউনিটটি চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটির বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ করতে হয়। এর ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় ও বাংলাদেশে সরবরাহও হ্রাস পায়।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বিকল হওয়ার আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এতে আগে থেকেই জ্বালানি সংকটের কারণে চাপের মুখে থাকা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আরও চাপে পড়ে এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যায়।
বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, বয়লারের ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই মেরামত কাজ শুরু করা হয়। প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত শেষ হওয়ায় দ্রুত উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে, কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল।
আদানি কর্তৃপক্ষ রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অতিবৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। এতে কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় কয়লা মজুত নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তবে গত মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে কেন্দ্রটির উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়।
পরে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করা সম্ভব হলেও ঠিক সে সময়ই বয়লারের ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা কেন্দ্র বর্তমানে অন্যতম বড় আমদানি উৎস। কেন্দ্রটির দুই ইউনিট থেকে মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিকল ইউনিটটি পুনরায় সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে ও চলমান লোডশেডিং কিছুটা কমবে।













