ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডে চার ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের এক দুঃসহ লড়াইয়ে কয়েকবার বমি করলেন ২৪ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী নোভাক জোকোভিচ। বীরোচিত এই লড়াইয়ের পরও শেষ পর্যন্ত পারলেন না তিনি। আর্জেন্টিনার মারিয়ানো নাভোনের কাছে ৭-৬ (৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ গেমে হেরে ইউএস ওপেন থেকে চোখের জলে কোর্ট ছাড়েন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। প্রতিবেদন দ্য গার্ডিয়ানের।
গ্র্যান্ড স্ল্যামে এটি জোকোভিচের রেকর্ড ৮৪তম অংশগ্রহণ। অথচ এমন একটি ম্যাচেই ক্যারিয়ারের অন্যতম হতাশাজনক হার দেখলেন তিনি। মাত্র তৃতীয়বারের মতো কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিলেন জোকোভিচ। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
তবে এবারের পরাজয়ের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল জোকোভিচের শারীরিক সমস্যা এত দ্রুত শুরু হওয়া। ম্যাচ শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে, প্রথম সেটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরই আর্দ্রতার কারণে তাকে অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা যায়।
পরবর্তী পাঁচ সেটজুড়ে কোর্টে যেন নিজেকেই টেনে নিয়ে চলছিলেন জোকোভিচ। কখনো বেসলাইনের পেছনে দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছিলেন, কখনো বমি করছিলেন, কখনো ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছিলেন না। শেষ দিকে তাকে পেশিতে টান বা ক্র্যাম্পের সঙ্গেও লড়াই করতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই যেন তার শরীরে আর কোনো শক্তি অবশিষ্ট ছিল না।
ম্যাচ শেষে জোকোভিচ বলেন, ‘কোর্টে আমার জন্য অনুভূতিটা যে কতটা ভয়াবহ ছিল, সেটা সম্ভবত স্পষ্টই দেখা গেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এ বছর প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই আমি এটা বয়ে বেড়াচ্ছি। বমি করা, শরীর থেকে সবকিছু বেরিয়ে যাওয়া; এটা গুরুতর সমস্যা। এরপর ধীরে ধীরে পুরো শরীর ভেঙে পড়তে শুরু করে। ক্র্যাম্প, ব্যথা, শেষ পর্যন্ত পিঠও আর সাড়া দেয়নি। কাঁধেও সমস্যা হচ্ছিল।’
অন্যদিকে নাভোনের জন্য এটি ছিল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। ছোটবেলা থেকেই জোকোভিচ তার আদর্শ। ড্র প্রকাশের পর ভক্তরা ২০১৪ সালের তার কিছু পুরোনো পোস্টও খুঁজে বের করেন। তখন মাত্র ১৩ বছর বয়সী নাভোনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টজুড়ে ছিল জোকোভিচকে সমর্থনের নানা বার্তা।
নাভোনের বাবা-মায়ের এ বছর ইউএস ওপেনে আসার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। কিন্তু ছেলের ড্রয়ে জোকোভিচের মুখোমুখি হওয়ার খবর পাওয়ার পর ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাদের ছুটি বাতিল করে নিউইয়র্কে উড়ে আসতে হয়।
আর সেই বিশেষ মুহূর্তে নাভোনে খেলেছেন দারুণ এক ম্যাচ। কোর্টের প্রতিটি বলের পেছনে ছুটেছেন। তবু হাল ছাড়েননি জোকোভিচ। দুর্দান্ত সার্ভিং ও অবিশ্বাস্য লড়াকু মানসিকতার জোরে ম্যাচে টিকে ছিলেন দীর্ঘ সময়। এক পর্যায়ে দুই সেট জিতেও এগিয়ে যান তিনি। কিন্তু চতুর্থ সেটে তার পা ভারী হয়ে আসে, কমতে থাকে প্রথম সার্ভের কার্যকারিতাও। ক্রমে শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের লড়াই শেষে ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিককে কাঁদতে কাঁদতে কোর্ট ছাড়তে হয়।


















