বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী পাসপোর্টগুলোর তালিকায় গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে। তবে এই অবস্থানেও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাসপোর্ট বিশ্বের তুলনামূলক দুর্বল পাসপোর্টগুলোর মধ্যেই রয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স মঙ্গলবার তাদের সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্ট একই অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বিশ্বের ৩৫টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন।
সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের নিচে রয়েছে নেপাল, সোমালিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান। র্যাঙ্কিং তৈরির ক্ষেত্রে কোনো দেশের নাগরিকরা কতটি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পান, সেটিকেই মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এবারের সূচকে বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)-এর ডেটাবেজ।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। তালিকার ৫২তম স্থানে থাকা দেশটির নাগরিকরা ৯৩টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান। ভারতের অবস্থান ৮১তম, যেখানে ভারতীয় নাগরিকরা ৫৫টি গন্তব্যে এ সুবিধা ভোগ করেন। শ্রীলঙ্কা রয়েছে ৯৪তম স্থানে, তাদের জন্য উন্মুক্ত ৩৯টি গন্তব্য।
বাংলাদেশের পরেই রয়েছে নেপাল, যার অবস্থান ৯৮তম। পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম স্থানে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্ট আফগানিস্তানের, যার নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান।
এবারও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ১৯২টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ পান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত; এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৮টি গন্তব্যে এই সুবিধা পান। ১৮৭টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন।
এ ছাড়া ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের ১১টি দেশ যৌথভাবে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৬টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা উপভোগ করেন।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানিয়েছে, পাসপোর্ট সূচকের ২০ বছরের ইতিহাসে বৈশ্বিক ভ্রমণ সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে একটি দেশের পাসপোর্টধারীরা গড়ে ১০৮টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান, যেখানে ২০০৬ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৮।
প্রতিবেদনটি আরও বলছে, বৈশ্বিক ভ্রমণ সুবিধা বাড়লেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভিন্ন সংঘাত আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই সঙ্গে সবচেয়ে শক্তিশালী ও সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্টের মধ্যে ব্যবধানও বেড়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা যেখানে ১৯২টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ পান, সেখানে আফগানিস্তানের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত মাত্র ২২টি গন্তব্য। অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ সুবিধার ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৭০টি গন্তব্য।















