• Home
  • প্রচ্ছদ
  • বেনজীর প্রত্যর্পণে নতুন মোড়, ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল দুবাই পুলিশ
Image

বেনজীর প্রত্যর্পণে নতুন মোড়, ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল দুবাই পুলিশ

দুর্নীতির একাধিক মামলার আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আইনি ও কারিগরি বিষয়ে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ব্যাখ্যা চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্র জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ দিন আগে দুবাই পুলিশের পাঠানো চিঠিটি বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহায়তায় চিঠির জবাব প্রস্তুত করছে দুদক।

বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথিপত্র সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বলেন, “চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত জবাব পাঠানো গেলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এর আগে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানায়, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।

পরে বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদন করে। দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক চ্যানেলে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। ওই নথিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র সংযুক্ত ছিল। প্রায় এক মাস পর সেই আবেদনের জবাব দিয়েছে দুবাই পুলিশ। বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের একটি কারাগারে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই পুলিশ বাংলাদেশ সরকারের কাছে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—বাংলাদেশ কোন আইনের ভিত্তিতে এবং কী পদ্ধতিতে বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে চায়। কারণ বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ বিষয়ে কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই।

এ ছাড়া আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি, পরোয়ানার কার্যকারিতা এবং পুরো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করছে—এসব বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

পরে ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক। আদালতের নির্দেশে তার এবং পরিবারের সদস্যদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়। তদন্ত চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন।

এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তার কয়েকজন সাবেক সহযোগীর দেওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যবসায়িক ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা দুবাই পুলিশকে তথ্য দেন। পরে একটি শপিং মল থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও দুবাই পুলিশের বিবেচনায় ছিল বলে জানা গেছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »