ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জানাজায় উপস্থিত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘এক হামলায়’ হত্যা করা সম্ভব ছিল—ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।
রোববার (৫ জুলাই) আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে।
পোস্টে বলা হয়, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না।’ আরও বলা হয়, ‘আপনারা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছেন, যার সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।’
ইরানি দূতাবাসের পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ‘আপনারা এসব বুঝবেন না। কারণ আপনাদের সভ্যতা নেই, ইতিহাস নেই, সম্মানও নেই।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আলি খামেনির জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার ভাষায়, তিনি ধারণা করেছিলেন মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে এবং সেখানে দেখা কান্না ‘নকল’ও হতে পারে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, জানাজায় উপস্থিত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ‘এক হামলাতেই’ হত্যা করতে পারত। তবে তা করা হয়নি, কারণ সেক্ষেত্রে আলোচনার জন্য আর কাউকে পাওয়া যেত না।
রোববার তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত মোজতাবা খামেনি ছাড়া অন্য তিন ছেলে এবং ইরানের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ আলি খামেনি নিহত হন। বর্তমানে তেহরানের মোসাল্লায় তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা সেখানে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
তেহরান, কোম, নাজাফ ও কারবালায় কয়েক দিনের শোকযাত্রা শেষে আগামী ৯ জুলাই আলি খামেনিকে দাফন করা হবে।















