বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফস্পিনার নাঈম হাসান অভিযোগ করেছেন যে, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে এবং চরম হেনস্তা করেছে। ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেওয়ার পর নিজ শহর চট্টগ্রামে ফিরছিলেন ২৬ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিযোগে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটনাটি ঘটে।
গত শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের লালখানবাজার ফ্লাইওভার এলাকায় তার যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। নাঈমের বিবরণ অনুযায়ী, একজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি এবং দুজন ইউনিফর্মপরা পুলিশ সদস্য তাকে মারধর শুরু করে। নিজের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানানোর পরেও আক্রমণ থামানো হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমার প্রিমিয়ার লিগে খেলা চলছিল, আমার ফ্লাইট বিলম্ব হয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজি নিয়ে আসতেছিলাম, ১১টা ২৫ এর দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে আমার সিএনজি দাঁড় করাল, ড্রাইভারের থেকে কাগজপত্র নিল। আমি পুলিশকে বললাম, আপনি আমার ব্যাগ চেক করেন দরকার হলে।’
কান্নায় ভেঙে পড়া নাঈম জানান, তাকে গলা চেপে ধরে জোরপূর্বক পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তিনি প্রতিরোধ করে বের হয়ে আসার পরেও নির্যাতন অব্যাহত থাকে। পাঞ্জাবি পরা একজন ব্যক্তি, যিনি নিজের কোনো পরিচয় দেননি, তিনি পাইপ দিয়ে তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন নাঈম। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রায় একশ থেকে দেড়শ জন মানুষ নাঈমের পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও মারধর বন্ধ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমাকে গলা চিপে ধরে বললো– তুই গাড়িতে উঠ। এই বলে আমাকে গাড়িতে তুলল। আমি, আপনি আমার গলা টিপে ধরছেন কেন বলে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে গেলাম। এরপর ওরা গলা টিপে ধরেই আমাকে মেরেছে এবং হেনস্থা করেছে। পুলিশ ছিল দুজন, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা মানুষ ছিল। ও কোনো পরিচয় দেয়নি, মারতেছিল পাইপ দিয়ে। পরে ১০০-২০০ মানুষ ছিল সেখানে, তারা আমার পরিচয় দিয়েছে, তবুও আমাকে মারতেছিল। বলছিল তুমি আসামি, কথা বলবি না। আমি আইডি কার্ড দেখিয়েছি, তাও ওরা আমাকে মারছিল।’
এরপর নাঈমকে খুলশি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন।
মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার পর নাঈম সঙ্গে সঙ্গে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সাথে যোগাযোগ করেন। তামিম পরবর্তীতে থানার ওসি এবং নাঈমের বাবার সাথে কথা বলেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
নাঈম প্রশ্ন তোলেন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বলেন, ‘পুলিশের গাড়ি তো ছিল সেখানে। গাড়িতে না তুলে সিএনজিতে করে আমাকে কই নিয়ে যাইতো?.. আমার জায়গায় যদি সাধারণ মানুষ হইতো আপনারা কেউ আসতেন না, একশ-দেড়শ মানুষ কোশ্চেন করতো না। পুলিশের হাতে যদি মানুষ সেইফ না থাকে তাহলে আর লাভ কী!’
নাঈম হাসান জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন শেষ ৫ বছর ধরে। আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলেও আছেন তিনি।














