• Home
  • জাতীয়
  • একাত্তরে যারা ধোঁকা দিয়েছিল,তারা চব্বিশেও ধোঁকা দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
Image

একাত্তরে যারা ধোঁকা দিয়েছিল,তারা চব্বিশেও ধোঁকা দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

নাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন ,যারা একাত্তরে ধোঁকা দিয়েছিল, তারা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও ধোঁকা দিয়েছে । এবং সরকার ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে কিছু মহল। গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। সেই সকল শহীদদের স্মরণে আমরা গতকাল ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। বিএনপি একাত্তরকে ধারণ করে, বিএনপি চব্বিশকে ধারণ করে। চব্বিশকে ধারণ করে বলেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। তিনি বলেন, স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দিয়েছিলাম যারা মুখে বলে চব্বিশকে তারা ধারণ করে। কিন্তু আমরা কি দেখলাম? জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সকল দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি বলছে। তাদের কর্মে আমরা আরেকটি কাজ, প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি। সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে হাজারও মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে। আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ তাদের টিকেট খায় না মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে তারা যেন কী টিকিট বিক্রি করেছিল। সেই টিকিট জনগণ খায় না। তখন বলেছিল- রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা বোন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের তো কিছু যায় আসে না। আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড চালু করব কি না। তিনি বলেন, ‘উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তাহলে ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন আগামী ৫ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। সেই সকল ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল যারা একাত্তর সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে তখনই জনগণকে ভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, দেশকে ভিন্নপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষি ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেন। জনসভা মঞ্চে বসে তিনি ল্যাপটপের বাটন চেপে কৃষকদের এই প্রণোদনা দেন। কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে এই টাকা পৌঁছে যায়। পরে তিনি দেশের ১৫টি সুগার মিল জোনের ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রণোদনার প্রতীকি চেক তুলে দেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন প্রমুখ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »