• Home
  • দেশ
  • দুর্গাপুর্জার উপত্তিস্থল রাজশাহীর তাহেরপুরে সিদুর শুভক্ষণে প্রতিমা বিসর্জন
Image

দুর্গাপুর্জার উপত্তিস্থল রাজশাহীর তাহেরপুরে সিদুর শুভক্ষণে প্রতিমা বিসর্জন

নাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: সিদুর শুভক্ষণে ও ঢাকের শব্দ আর উলু ধ্বনির ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে রাজশাহীর তাহেরপুর পৌরসভায় দুর্গাপুর্জার উপত্তিস্থল বারনই নদিতে দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ইতি টানলো সনাতনীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকাল ৪টা থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। এসয়ম বারনই নদীর দুই তীরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান মিলনমেলায় পরিণত হয়। সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে। তবে পুজারীদের দল সামলাতে কিছুটা বেগ পেতে হয় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের। এলাকাবাসি সুত্রে জানাগেছে, ত্রেতাযুগে স্বয়ং ভগবান রামচন্দ্র রাবণ বধের জন্য অকালে এই পূজা করেছিলেন। আর কলিযুগে ঐতিহাসিক তাহেরপুর পৌরসভায় বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম রাজা কংস নারায়ণ আধুনিক পদ্ধতিতে উৎসবের ঘনঘটায় এই পূজার আয়োজন করেন। গত ৫৪০ বছর আগে সম্রাট আকবরের শাসনামলে তাহেরপুরের রাজা কংস নারায়ণ সে সময় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু করেন দুর্গাপূজা। আর এই জন্যই দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থল হিসেবে তাই গর্ববোধ করেন তাহেরপুরের অধিবাসীরা।

এদিকে, দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থল হিসেবে ইতিহাসখ্যাত তাহেরপুর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যভূমির স্বীকৃতি আজও পায়নি। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এবং স্বীকৃতি আদায়ের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক নেতারা অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে তাহেরপুরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে প্রতি বছর শারদীয় দুর্গাপূজার সময় সারাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীদের মিলনামেলায় পরিণত হতো এই স্থানটি। এরই ধারাবহিকতা ধরে রাখতে এ বছরও গোবিন্দবাড়ীতে দুর্গাপুজা শুরু হয়। উল্লেখ্য, বারো মাসে তের পর্বণ কথাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য প্রচলিত থাকলেও শারদীয়া বা দূর্গা পূজাই বেশি আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে পালন করা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা প্রথম শুরু হয় রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর রাজবাড়িতে। তবে দুর্গামাতা মন্দিরে অষ্টধাতুর তৈরি প্রতিমাও রয়েছে, যা প্রতি বছর বিসর্জন দেওয়া হয় না। তবে বিভিন্ন ম-পের প্রতিমাগুলো বারনই নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »