সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষিকার জিডি
কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বুলবুলের দায়িত্ব পালন ও বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ তুলেছেন। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, উচ্চতর স্কেল প্রদান এবং বিদ্যালয়ের পুকুর ও জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা ও স্থানীয়রা।
অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষকের দাবি, টিউশন ফি বাবদ প্রায় ৩ লাখ টাকা উত্তোলনের পর তা শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ এবং বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নেই। এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও উচ্চতর স্কেল প্রদানের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বুলবুল।
জানা গেছে, জিডিতে কাউনিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো ঃ সাইফুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান শামীম, সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন সুজন এবং আসলাম খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
কাউনিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ শিহাব উদ্দিন জিডি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জিডিটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বুলবুলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলব না। আপনারা যা পারেন লেখেন।”
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার দিল আফরোজ বলেন, “এ বিষয়ে অন্য শিক্ষকদের কোনো অভিযোগ নেই।” বিদ্যালয়ের পুকুর ও জমি লিজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ে পুকুর এবং জমি আছে কি না, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।” তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে জিডির বিষয়টি তিনি অবগত রয়েছেন বলে জানান।অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।















