ভরা মৌসুমেও স্বাদ থেকে বঞ্চিত
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ ভরা মৌসুমেও রংপুরের কাউনিয়ায় ইলিশের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক চড়া দাম। পদ্মা, মেঘনা নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা পড়লেও স্থানীয় হাট-বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। বাজারে ইলিশ মিললেও তা কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে সাধ থাকলেও সাধ্যের অভাবে জাতীয় মাছ ইলিশের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষ।
স্থানীয় বাজার ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে কাউনিয়ার বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। ৭৫০ গ্রাম ওজনের মাঝারি আকারের ইলিশের দাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা। আর ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে।
সাধারণত ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে ইলিশের ভরা মৌসুম থাকে। এ সময়ে নদী ও সাগর থেকে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় বাজারে দামও তুলনামূলক কম থাকার কথা। কিন্তু এবার এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। মৌসুম চললেও কাউনিয়ার বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়েনি, ফলে দামও কমছে না।
ক্রেতা নুর আমিন বলছেন, ইলিশের প্রতি পরিবারের সদস্যদের আগ্রহ থাকলেও অতিরিক্ত দামের কারণে অনেকেই তা কিনতে পারছেন না। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর কাছে ইলিশ এখন প্রায় নাগালের বাইরে চলে গেছে।
মুদী ব্যবসায়ী নান্টু, রিক্সা চালক আনারুল, দিনমজুর বাহাদুর তাদের দাবি, ভরা মৌসুমে বাজারে ইলিশের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় ক্রেতাদের আশঙ্কা, মৌসুমে ইলিশ কিনতে না পারলে সামনে মাছ ধরা ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে ইলিশ খাওয়ার সুযোগ আরও কমে যাবে।
মাছ আড়ৎদার ভোলারাম দাস বলেন, ইলিশের আকার, সরবরাহ এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর দাম নির্ভর করে। বর্তমানে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ভাদ্র-আশ্বিন ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও এ বছর নদী ও সাগরে তুলনামূলক কম ইলিশ ধরা পড়ছে। পানি বাড়লে সাগর থেকে ইলিশ নদীতে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। তখন জেলেদের জালে রুপালি ইলিশের পরিমাণ বাড়তে পারে। সরবরাহ বাড়লে বাজারে ইলিশের দামও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


















