• Home
  • দেশ
  • আটোয়ারী সেটেলমেন্ট অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব
Image

আটোয়ারী সেটেলমেন্ট অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব

সেটেলমেন্টের ধারা উপধারায় নিষ্পেশিত জমির মালিকরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি॥ দেখে মনে হয় কর্মচারীরা ব্যস্ত নানা কাজে। বাইরের পরিবেশ দালাল দ্বারা সাজানো। সংবাদকর্মী দেখলেই সবাই চুপচাপ।এযেনো শেখানো বুদ্ধি। জমির মালিকরা দালাল ছাড়া কাজ করতে পারেনা। তবে টাকার নেশায় অনেক দালাল জমির মালিকদের জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কখনো বাইরে আবার কখনো অফিসটির কর্তাদের সাথে বুঝ পরামর্শ করতে চুপিসারে ফিসফাস।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে প্রতিদিনের চিত্র এটি। অফিসটি দালাল দ্বারা বেষ্টিত। তবে হয়রানির ভয়ে অভিযোগ ও দিতে পারেনা জমির মালিকরা। তারা ও চুপিসারে জমির কাজ করিয়ে নিতে বাধ্য। যার কারন সেটেলমেন্ট অফিসের কর্তারাই জমির মালিকানার কাগজ তৈরি করেন এবং তাদের সিল স্বাক্ষরে বৈধ মালিকানায় পরিনত হয় জমি। জমির মালিকানা স্বত্ব রয়েছে যেমন ৩০ ,৩১ ধারা সহ ধারা উপধারা। মাঠ পর্চায় ও সেলেটমেন্ট কর্মচারীদের নানা ফন্দি ফিকির রয়েছে। কখনো কখনো জমির মালিক কারন-অকারণে মাঠ পর্চা থেকে বঞ্চিত হয়। সেখানে হয়ানির শেষ নাই। কখনো মূল দলিল আবার কখনো ভায়া দলিল দেখাতে হয়। তাতেই অস্থির জমির মালিকরা। ভয়ে ভীত, কারন জমি যেনো বেহাত না হয়। এসময় তারা কর্মচারি বা দালালদের দৌরতেœ্য লুকোচুরিতে পড়ে গিয়ে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হয়ে আসছে। কার্যক্রমের সূত্রে রয়েছে, ডিসপুট প্রক্রিয়া। অর্থাৎ জমির মালিকানা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবির শুনানী। দিতে হয় দাবির বিপরীতে হাজিরা। এজটিলতায় চলে দিনের পর দিন। মৌজায় মৌজায় চলে পৃথক শুনানি। স্বঘোষিত ভাবে দালাল রয়েছে। তারাই হাত ঝাড়িয়ে টাকার দাবি করেন। জমির কাগজপত্রে ফাকফোঁকর বুঝে টাকা হাতিয়ে নেন। শত কাজের ঝামেলা পোহাতে হয়।এতেই পোয়া বারো কর্মকর্তা বা কর্মচারির। উৎকোচ নেওয়ার প্রক্রিয়া একেবারে সিস্টেম করা। এলাকার নানা জায়গায় রয়েছে পালিত। অফিসের প্রেসকার বিসি বা সার্ভেয়ার কিম্বা অফিস সহায়ক তাদের হাতেই থাকে ক্ষমতার চেরাগ।সেই চেরাগের পথ ধরেই চলে দালালরা। মাঠে হাজারও হেক্টর জমি। মালিকানা রয়েছে হাজার হাজার। ঘাটে ঘাটে ধারাপাতের মতো নানা ধারায় জমির মালিকরা জমি রক্ষার জন্য ছুটে আসেন আটোয়ারী সেটেলমেন্ট অফিসে। ৫ শত টাকা থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত উৎকোচ দিতে হয় জমির মালিকদের। যদি সকল ধারায় কাজ বঞ্চিত হন জমির মালিক তবে তো কথাই নেই, টাকার ব্যাগ নিয়ে ঘুরতে হবে।কর্মচারি বা দালালদের পিছনে।এক নিরব ও ভয়ানক খেলায় মত্ত কর্মচারি ও দালালরা। তারা পকেট ফাঁকা করেই বিদায় দেয় জমির মালিকদের। অফিসটির কর্মচারী দালালদের মাধ্যমে লুটে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। বদলি হলেও এই ধারা অব্যাহত থাকে।

বর্তমান আটেয়ারী সেটেলমেন্ট সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন হেলাল উদ্দীন সরকার। তার উৎকোচের আদায়ের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সার্ভেয়ার জুলফিকার আলী ভূট্রো। আর অধিনায়কের বড় বাহক হচ্ছে দালালরা। অতি গোপনে চলেবহুমুখি ধারাপাতের মতো ধারায় ধারায় উৎকোচ আদায়। সূত্র জানায়, পর্চা প্রদান আপিল কেস ,রায়ের নকল কপি সরবরাহে রয়েছে নানা ফাঁদ। এই ফাঁদে আটকে যান জমির মালিকরা। নয় ছয় দেখিয়ে কালক্ষেপন করেন। মোটা অঙ্কের টাকা ধরিয়ে দিলেই সব নয় ছয় পরিষ্কার হয়ে যায়।

সম্প্রতি আটোয়ারী সেলেটমেন্ট অফিসে গেলে দেখা যায়,দালালদের উৎপাত। দুলাল নামে এক দালাল জমির মালিকদের কাছে জমির কাগজপত্র বুঝে নিচ্ছেন। তার বক্তব্য পাওয়া না গেলে তার দিকে ক্যামেরা ধরা হলে তিনি তার হাত উচিয়ে ধরেন, এসময় বলেন ছবি তোলেন তোলেন সমস্যা নাই। তিনি প্রায় দেড় দশক ধরে এই অফিসেই দালালি করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলতে তিনি সহকারী ভূমি কমিশনারের অফিসেও যান। তার দায় হিসেবে রয়েছে জমির মালিকদের সেটেলমেন্ট অফিসে কাগজপত্র তোলা। পাবলিক সার্ভেয়ার পরিচয় দেওয়া একজন দালালের ছবি তুলতে গেলে তিনি বলেন, আমি তো পাবলিক সার্ভেয়ার। আমি একজনের পর্চা দেখছিলাম। কেনো তিনি এখানে তার জবাব দিতে পারেননি তিনি। অফিস প্রাঙ্গনেই কাগজপত্র নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছিলেন।

এমন ঘটনার পর ওই অফিসের প্রধান সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন সরকারের নিকট গিয়ে তাকে দালালদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসময় এ প্রতিনিধিকে ম্যানেজ করতে সার্ভেয়ার জুলফিকার আলী ভূট্রে কে ডাকতে থাকেন । তবে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন অফিসে কোন শূণ্য পদ নাই। তবে দালাল কেনো’ জানতে চাইলে দালাল নাই বলে জানান। এ সময় নব্য নিয়োগ পাওয়া আল আমিন নামে এক কর্মচারী বলতে থাকেন আপনারা তো ভূয়া সংবাদ প্রকাশ করবেন। কি কারনে তিনি এমন উক্তি করলেন জানতে চাইলে তিনি চুপ থাকেন।

উপজেলার লক্ষীপুর মৌজার জমির মালিক শমসের আলী ১১/২/২০১৩ সালে জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে তিনি তার নামে পর্চা নেওয়ার সুযোগ পাননি। তিনি জানান এ কাজটি সার্ভেয়ার রবিউল ইসলাম করবে বলে তাকে তার পরিবারের কোন একটি পর্চা আনতে বলেন।তিনি তার কথা মত তার বাবার একটি পর্চা নিয়ে আসেন। সাংবাদিকের উপস্থিতির কারণে সার্ভেয়ার তাকে অপেক্ষা করতে বলেন।

ঘটনার এক পর্যায়ে সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন সরকারকে বিষয়টি বার বার তাগিদ দেওয়ার পর ও তিনি কৌশলী উপায় অবলম্বন বার বার সার্ভেয়ার জুলফিকার আলী ভূট্রো কে ডেকে সাংবাদিককে ম্যানেজ করার ইঙ্গিত করেন। তারা পেয়ে এক সময় সার্ভেয়ার রবিউল ইসলাম রুম থেকে উঠে এসে তাকে আসতে বলেননি বলে জানান।

তবে খবর নিয়ে জানা যায়, এটি ৪২ এর (ক) ধারার কাজ। পাঁচ/সাত দিনের জন্য বন্ধ আছে। তবে রবিউল ইসলাম মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে এসব কাজ করে এনে দেন। এছাড়া আপিল কেসের ক্ষেত্রেও হয়রানীর শেষ নেই।#

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »