• Home
  • জাতীয়
  • বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করবে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স
Image

বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করবে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ প্রধান খাতগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স।

আজ সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেঁরে-শার্লের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সাক্ষাৎকালে ফরাসি রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, অ্যাভিয়েশন, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফ্রান্সের সাথে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ (স্পেস), প্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো তুলে ধরে বাংলাদেশে আরও বেশি ফরাসি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। একই সাথে হুমায়ুন কবির অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্যারিসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য ঢাকা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত সেঁরে-শার্লে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে ফ্রান্সের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা এবং বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে ফ্রান্সের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

উভয়পক্ষ আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) অধিবেশনকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে মতবিনিময় করে। তারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ফ্রান্সের অব্যাহত মানবিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। উভয়পক্ষই রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্কের গতিশীলতাকে আরও বেগবান করতে নিরবিচ্ছিন্ন সম্পৃক্ততা ও বর্ধিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এ বিষয়ে উভয়পক্ষের গভীর আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »