নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও। এ কারণে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়লে হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে।এ সময় নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও নেপালের বাড়তি বিদ্যুৎ থাকে, যা রপ্তানি করা হয়।
বাংলাদেশ সদ্যই ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপালের বিদ্যুৎ আনছিল। তবে এখন এ বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নেপালের ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর অনেক হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।
নেপাল শুষ্ক মৌসুমেও গড়ে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আসছিল উল্লেখ করে কাঠমান্ডু পোস্ট বলছে, এখন এটি ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে নেপালেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতো। তবে হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে দেশটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারকে পরিণত হয়।
নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন ছিল ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলমি হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্ট এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলি হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টের, যেগুলো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ফলে গত সপ্তাহ থেকে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রেখেছে।মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ভারতের গ্রিড দিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠান দুটি।
বিষয়টি নিয়ে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেছেন, “বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা দুটি কেন্দ্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে আমরা ভারতকে বিকল্প হিসেবে অন্য প্রজেক্ট থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর সুযোগ দিতে অনুরোধ করেছি। ”



















