• Home
  • দেশ
  • এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম দ্বিগুণ দিশেহারা নিম্নআয়ের মানুষ

    বৃষ্টি ও সিন্ডিকেটের থাবায় সিংড়ায় সবজির বাজারে আগুন
Image

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম দ্বিগুণ দিশেহারা নিম্নআয়ের মানুষ

বৃষ্টি ও সিন্ডিকেটের থাবায় সিংড়ায় সবজির বাজারে আগুন

রাকিবুল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়ায় কাঁচাবাজারে যেন আগুন লেগেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি শাকসবজির দাম বেড়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণে ঠেকেছে। লাগামহীন এই মূল্যবৃদ্ধিতে বাজারে এসে পকেটের হিসাব মেলাতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ।

সরেজমিনে সিংড়া পৌর এলাকার প্রধান হাটসহ উপজেলার কালিগঞ্জ, বিলদহর ও বিয়াশ হাট ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের এই ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। গত সপ্তাহে যে মরিচ বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজি দরে, তা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া গত সপ্তাহে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ১০০ টাকা, ২০-২৫ টাকার আলু ৩৫ টাকা এবং ৪০ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

একইভাবে বাজারে ৩০-৪০ টাকা কেজির পটল ও ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। মুখি কচুর দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকায়। এছাড়া বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি টমেটো ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

আকাশছোঁয়া এই দামে বাজারে এসে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। পৌর হাটে বাজার করতে আসা শফিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে। বৃষ্টির দোহাই দিয়ে তারা আমাদের মতো সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পকেট কাটছে।”

তবে খুচরা সবজি বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির পেছনে তাদের কোনো হাত নেই বলে দাবি করছেন। সিংড়া পৌর হাটের সবজি বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, “টানা বৃষ্টিতে কৃষকের ক্ষেত ডুবে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বড় মোকামগুলোতে সরবরাহ অনেক কমে গেছে। আমাদের চড়া দামে কিনতে হচ্ছে, সাথে পরিবহন খরচও বেড়েছে। বেশি দামে কিনে আমরা তো আর কম দামে বিক্রি করতে পারি না!”

এদিকে অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য থামাতে বাজারে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »