পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ পরিবর্তনের আওতায় নতুন পররাষ্ট্রসচিব নিয়োগের পাশাপাশি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, ভারত ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির পদেও নতুন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সালাহউদ্দীন নোমান চৌধুরীকে নতুন পররাষ্ট্রসচিব করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো হবে।
বর্তমানে ভারতে দায়িত্ব পালন করা হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আর জেনেভায় বর্তমানে দায়িত্বে থাকা নাহিদা সোবহানকে দেশে ফিরিয়ে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর করা হবে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর আগেই তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, গত মার্চ থেকে শূন্য থাকা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার পদে ফরেন সার্ভিস একাডেমির বর্তমান রেক্টর ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান (এপেলো)-কে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব নিয়োগ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় আইরিন খানের দায়িত্ব গ্রহণের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে পুরো রদবদল কার্যকর করা হতে পারে।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তসরকারি সংস্থাসমূহ) এম ফরহাদুল ইসলামকে মরিশাসে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জকি আহাদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর আগে জকি আহাদকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আয়ারল্যান্ডে নুর-ই আলম, আর্জেন্টিনায় এ এফ এম জাহিদুল ইসলাম এবং পর্তুগালে সাবেক প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সিঙ্গাপুর ও ইরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পদ এখনো শূন্য রয়েছে।
এর আগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে নিযুক্ত চার রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজন দেশে ফিরলেও মালদ্বীপে নিযুক্ত হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের কাছে আবেদন করে এখনো কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।















