জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টি, সাম্যবাদী চেতনা এবং সাহিত্যকর্মকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দেশের ৬৪ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ’-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও বছরব্যাপী কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল আমাদের বিদ্রোহী বা জাতীয় কবিই নন, তিনি বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তাঁর অনন্য সৃষ্টিকে শুধু দেশীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে হবে।”
তিনি বিশ্বদরবারে নজরুলের দর্শন পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায়ে কবি নজরুলের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আরও বলেন, নানা বৈচিত্র্যময় আয়োজনের মাধ্যমে এই বিশেষ বর্ষটিকে কাজে লাগাতে হবে। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে বছরজুড়ে প্রতিটি কর্মসূচি সফলভাবে পালন করা অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে তরুণ সমাজ কবির অসাম্প্রদায়িক ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেতনা থেকে দেশপ্রেমের নতুন অনুপ্রেরণা লাভ করবে।
উল্লেখ্য, এর আগে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের ২৫ মে (কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী) থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
আজকের এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, নজরুল সংগীত উৎসব, সেমিনার ও শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতাসহ নানা নান্দনিক কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।


















