• Home
  • দেশ
  • অন্নদানগর হাটের বট-পাকুর গাছে পাখির অভয়াশ্রম
Image

অন্নদানগর হাটের বট-পাকুর গাছে পাখির অভয়াশ্রম

মানুষের কোলাহলের মাঝেই

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ কাউনিয়া উপজেলার সীমান্তঘেঁষা অন্নদানগর হাটে মানুষের কোলাহলের মাঝেই গড়ে উঠেছে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল। হাটের শতবর্ষী দুটি বট ও পাকুর গাছে প্রায় এক যুগ ধরে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করছে। ফলে স্থানীয়দের কাছে অন্নদানগর হাট এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘পাখির হাট’ নামে।

হাটে প্রবেশ করলেই শোনা যায় পাখির কিচিরমিচির শব্দ। গাছের ডালে ডালে পাখির ওড়াউড়ি, ছানাদের খাবার খাওয়ানো এবং বাসা তৈরির দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন হাটে আসা মানুষজন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে এলেও অনেক হাটুরে পাখিদের এই মনোমুগ্ধকর কর্মকাÐ দেখতে সময় কাটান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে হঠাৎ এক সন্ধ্যায় শত শত সাদা বক, কানি বক, ঝুঁটি বক, লাল-হলদে বক, পানকৌড়ি, শালিক, চিল, কাক, শামুকখোল ও কদমাসহ নানা প্রজাতির পাখি বট-পাকুর গাছে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং বর্তমানে গাছ দুটির প্রায় সব ডালজুড়েই তাদের স্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছে।

অন্নদানগর বাজার কমিটির সভাপতি জানান, দিন-রাত সব সময়ই গাছ দুটিতে শত শত পাখির আনাগোনা দেখা যায়। পাখিরা ডালের পর ডালে বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফোটায় এবং নির্বিঘেœ সেগুলো লালন-পালন করে।

অন্নদানগর কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ও স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এলাকার মানুষের সঙ্গে পাখিদের এক ধরনের সখ্যতা তৈরি হয়েছে। কোনো পাখির ছানা গাছ থেকে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তা আবার বাসায় তুলে দেয়। পাখি শিকারির হাত থেকে রক্ষা করতে বাজারের ব্যবসায়ীরাও সতর্ক নজর রাখেন।”তিনি আরও জানান, হাটে আসা মানুষের গায়ে পাখির বিষ্ঠা পড়লেও কেউ বিরক্ত হন না। বরং সবাই পাখিগুলোকে আপন মনে করেন। মানুষের এই সহমর্মিতা ও ভালোবাসার কারণেই অন্নদানগর হাট আজ প্রায় ১৮ থেকে ২০ প্রজাতির পাখির নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।

কাউনিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা ডাঃ এআরএম আল মামুন বলেন, প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে অন্নদানগর হাট। ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ এই চেতনাকে ধারণ করে স্থানীয়রা পাখি সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে মানুষের হাটের মাঝেই গড়ে উঠেছে পাখিদের এক অনন্য স্বর্গরাজ্য।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »