পেনশন পেলেন কারাগারের সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার!

দীর্ঘ সাত বছর পর মানবিক সিএএফও ( স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) এর সহযোগিতায়

0
Exif_JPEG_420

নিজস্ব প্রতিনিধি : সরকারি চাকুরিজীবীদের অবসর নেওয়ার পর শেষ সম্বল থাকে পেনশন। সরকার বাহাদুর তাঁর এই সেবকের জীবনের নিরাপত্তার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা করিয়াছেন। কারণ একজন সরকারি সেবক তাঁর জীবন – যৌবনের সবটুকুই উজাড় করে দিয়েছেন জাতির সেবায়। তাই স্বল্প সম্পদের নানাবিধ সংকটের মধ্যে থেকে সরকার তাঁর সেবকের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে আপ্রাণ চেষ্টারত থাকেন সর্বসময় । আর সরকারের এই চেষ্টা কে শতভাগ সফল করতে কেউ হন কান্ডারি আর কেউ সুযোগে সৎব্যবহার করে বাম হাতে করেন পকেট ভারী আবার কেউবা অজ্ঞতা বশত চালান জীবনের বিষাদ ছুরি আবার কেউবা অহংকারী হয়ে নিজের ইচ্ছে টিকিয়ে রাখতে অন্যের জীবন দেন পাঁঠাবলী আবার চাকরি জীবনের খুনসুটির প্রতিশোধ নিতে করেন ষড়যন্ত্রের বাহাদুরি / কারসাজি। যা একজন পেনশনারের জীবন কে পেনশনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি কান্ডারী হিসেবে করতে পারে সুখময় ! বর্তমান পেনশনারদের জন্য কান্ডারী হয়ে কাজ করছেন এজি অফিস । আর যদি কান্ডারী না হয় তাহলে হয়তোএকজন পেনশনার কে যন্ত্রণাময় জীবন নিয়েই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয়। এমনি ভাবে অমানবিক সরকার বিরোধীদের কারণে কতো যে পেনশনার তাঁর পেনশন ভোগ না করেই পৃথিবীকে অভিশপ্ত মনে করে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন যার হিসেব নেওয়ারো কেউ নেই! অথচ যারা এই অন্যায় কাজগুলো করছেন তারা নিজেরাই সময়ের পরিক্রমায় কিছুদিন পর ঐ পেনশনার নামক চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন। মন যখন মরে যায় ব্যক্তি তখন নিজেকেই চিনতে পারে না। মানবতার বানী তখন নিভৃতেই ঝরে শুধু সৃষ্টি কর্তার কাছে পরিত্রাণ চায়। সৃষ্টি কর্তার যদি দয়া হয় তাহলে তাঁর প্রতিনিধি হয়ে ঐ পেনশনার কে উদ্ধার করেন কোনো মানবিক কর্মকর্তা। এমনি একজন মানবিক ও দক্ষ কর্মকর্তা

এবং মাদারীপুরের মেধাবী কৃতি সন্তান এজি অফিসের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিএএফও মোঃ মনিরুজ্জামান হাওলাদার । তিনি সৃষ্টি কর্তার প্রতিনিধি হয়ে ত্রাণকর্তা হিসেবে এসেছিলেন দীর্ঘ সাত বছর যাবত পেনশনের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকা কারা অধিদপ্তরের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মুমূর্ষু পেনশনার মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের জীবনে। তিনি স্ব উদ্যোগী হয়ে কারাগারের পরিদপ্তর ও অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতো সকল সমস্যা সমাধান করে মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার কে পেনশনের ব্যবস্থা করে দেন। এ সম্পর্কে মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি অশ্রু সিক্ত কন্ঠে বলেন, যে কারাগারে নিজের জীবন – যৌবনের ৪১ বছরের বেশি সময় জাতির সেবায় কাটিয়ে দিলাম সেই কারাগারের কতিপয় ষড়যন্ত্রকারী দুষ্টু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য চাকরি জীবন শেষে দীর্ঘ সাত টি বছর পেনশন থেকে বঞ্চিত হলাম আর এই চিন্তায়, হতাশায় ব্রেণ স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে মানবিক মাননীয় সংসদ সদস্য শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বর্তমান আইজি প্রিজন আনিসুল হক, অ্যাডিশনাল আইজি প্রিজন শেখ সুজাউর রহমান ও এজি অফিসের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিএএফও মানবিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান হাওলাদারের সহোযোগীতায় আমার মৃত্যুর পূর্বে অপূর্ণাঙ্গ পেনশন টা পেলাম কিন্তু দুষ্টু ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে জীবনে যা হারিয়েছি তার ক্ষতি পূরণ আমাকে কে দিবে ? তিনি আরো বলেন, কারাগারের কতিপয় কর্মচারীবৃন্দ আমার মুমূর্ষু শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে হুমকি – ধামকি,জোরজবরদস্তি করে ও কূটকৌশলে আমার কাছ থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের একটি কাগজে সই করিয়ে নেয়। যার কারণে আমি আমার আবেদনে উল্লেখিত সর্বপ্রধান কারারক্ষী পদে উত্তীর্ণ হয়েও সার্বিক সুযোগ – সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলাম। যারা এই দীর্ঘ দিন ষড়যন্ত্র করে আমাকে ভুগিয়েছে আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করুন আর যদি শাস্তি কল্যাণকর হয় তাহলে শাস্তি দিন । যাঁরা আমার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে পেনশন পেতে সহযোগিতা করেছেন আল্লাহ তাঁদের সার্বিক কল্যাণ দান করুন ।

এ ব্যাপারে সিএএফও মোঃ মনিরুজ্জামান হাওলাদার সাহেব বলেন, খুবই দুঃখজনক হলেও সত্য একজন সরকারি সেবক জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে নিজ নিজ ডিপার্টমেন্টে পেনশনের জন্য অবহেলা ও হয়রানির শিকার হন। আমাদের এখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ সঠিকভাবে পেনশনারের আবেদনে প্রাপ্তির পরবর্তী কার্যদিবসেই এ কার্যালয় কর্তৃক সমুদয় কাজ সম্পন্ন করে পেনশনার গন কে ফোনে জানানো হয় এবং পেনশনের চেক গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। পেনশনার গন আসার পর পরই তাঁদের আপ্যায়ন করা হয় এবং সিএএফও কর্তৃক চেক ও পিপিও বই হস্তান্তর করা হয় । পেনশনার গণ কে গুণগত সেবা প্রদানে সিএএফও এর তত্ত্বাবধানে এ ব্যাপারে সবাই সর্বদা সচেষ্ট আছেন । এজি অফিসকে সেবাধর্মী অফিসে পরিণত করার জন্য বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল জনাব মোঃ নুরুল ইসলাম স্যার যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তাঁর নিরলস পরিশ্রম , বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও প্রচেষ্টার কারণে নিরীক্ষা ও হিসাব বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ সর্বদা মানসম্পন্ন সেবা প্রদানে সচেষ্ট আছেন। আমাদের এখানে যদি কেউ এ ব্যাপারে কোনো প্রকার অবহেলা ও সমস্যা করে আমরা তখন এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে থাকি। আমরা মনে করি এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এছাড়াও জীবনের শেষে এসে নিজের জীবনটাই একটা বোঝা হয়ে যায় সেখানে পেনশনের হয়রানি মূলক বোঝাটি বহন করার ক্ষমতা পেনশনারের থাকে না তাছাড়া আমরা নিজেরাও একদিন পেনশনে যাবো সার্বিক বিবেচনায় মানুষ হয়ে মানবিকতার বাহিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।