কাউনিয়ায় বর্ষাকালে নদী-নালা, খাল-বিল সর্বত্র পানিতে টইটম্বুর

মাছ শিকারের চাঁইয়ের কদর বাড়লেও অবহেলিত এই শিল্পের কারিগররা

0

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ বর্তমানে চলছে বর্ষাকাল। কাউনিয়ায় নদী, নালা, খাল-বিল, জলাশয় গুলো সর্বত্র পানিতে টইটম্বুর। এ সময়টাতে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ বেড়ে যায়। গ্রামাঞ্চলে জাল দিয়ে মাছ শিকারের পাশাপাশি কৌশলে মাছ ধরতে জমির আইলে কিংবা অন্য কোনো স্থানে অল্প পানিতে সহজেই মাছ ধরার জনপ্রিয় একটি প্রাচীন উপকরণ হচ্ছে চাঁই। জনপ্রিয় বাঁশের তৈরি মাছ ধরার এই ফাঁদটি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। ফলে চাই সহ বাঁশের তৈরী বিভিন্ন উপকরণ তৈরীতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন এই শিল্পের সাথে জরিত কারিগররা। এসময়টিতে এ শিল্পের সাথে জরিতদের বার্তি আয়ও বাড়ে। এ শিল্পের বিভিন্ন উপকরনের মূল্যে বৃদ্ধিসহ সরকারী কোন প্রনোদনা না থাকায় অবহেলিতই রয়ে যাচ্ছেন কারিগররা। সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানাগেছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফাঁদের আকার-ধরণ ও নকশায় পরিবর্তন হলেও এখনো কমেনি বাঁশের তৈরি চাঁইসহ বাঁশের বিভিন্ন উপকরণ। হাটবাজার গুলোতে মাছ ধরার চাঁই প্রচুর পরিমানে উঠেছে, ক্রেতাও বেশ ভাল। বনগ্রাম, বড়–য়াহাটসহ নির্দিষ্ট কিছু গ্রামীণ এলাকার নারী-পুরুষেরা সারাবছর ধরে চাঁই ও বাঁশের তৈরি বিভিন্ন উপকরণ তৈরী করেন। গ্রামের মৎস্য শিকারীরা দেশীয় সুস্বাদু মাছ ধরার জন্য পানিতে পাতে নানা রকমের ফাঁদ। আর মাছ ধরার ফাঁদ হিসেবে বাঁশের তৈরী চাইয়ের জুড়ি নেই। উপজেলার টেপামধুপুর, তাকিপল হাট ও খানসামা হাটসহ বিভিন্ন বাজারে চাঁইসহ বাঁশের বিভিন্ন উপকরণের বেচা-কেনার জন্য জনসাধারণের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তকিপল হাটে বাঁশের তৈরী উপকরন কিনতে আসা ক্রেতা আবেদ আলী বলেন, শখের বসে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরতেই চাই কিনতে হাটে এসেছি। বর্ষা মৌসুমে মাঠে এই চাই পেতে মাছ ধরার মজাই আলাদা। তবে দিন যতই যাচ্ছে ততই এই খলশানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি চাঁই প্রকার ও মান ভেদে ২৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁই হচ্ছে আড়াই-তিন ফুট লম্বাকৃতির চার কোনা, গোলাকার এবং টইয়া চ্যাপ্টা আকৃতির। বাঁশ শিল্পের কারীগর রফিক জানান, বর্তমানে ছোট জাতের মাছ ধরার সুতি, ভাদায় ও কারেন্ট জালের দাপটের কারণে দেশি প্রযুক্তির বাঁশের তৈরি চাঁই সামগ্রী এমনিতেই টিকে থাকতে পারছে না। কিন্তু জীবনের তাগিদে পৈতৃক এই পেশা ধরে রেখেছেন তারা। চাঁই তৈরীর কারিগর আনোয়ার জানায় সারাবছরে এর তেমন চাহিদা থাকেনা, বর্ষা মৌসুমে এর খুব চাহিদা বাড়ে বিশেষ করে যে বছর বন্যা হয়। চলতি মৌসুমে সে সবচেয়ে বেশী চাঁই তৈরী করেছে। সে আর জানায় বাঁশ শিল্পের সাথে যারা জরিত তাদের সরকারী ভাবে পৃষ্টপোষকতা করা প্রয়োজন, তা নাহলে গ্রাম বাংলার এ শিল্প একদিন হারিয়ে যাবে। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো ভালো নেই। বছরের কয়েকটি মাস তারা মাছ ধরারা চাঁই সহ বাঁশের তৈরি উপকরন তৈরী করে সারাবছর সংসার চালানো এই পরিবার গুলোর জন্য অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই অবসর সময়ে তারা সরকারের প্রনোদনা চায়। এছাড়া কম সুদে ঋণ দিলে বেশি করে এই বাঁশ শিল্পের উপকরণ তৈরি করে নিজেরাই দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানী করতে পারতো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিদুল হক বলেন, চাঁই একটি প্রাচীন মাছ ধরার উপকরণ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এর চাহিদা এখন অনেকটাই কমে গেছে। এই পেশার সঙ্গে যে পরিবারগুলো এখনো যুক্ত আছে আমি তাদের খোঁজ-খবর নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করবো।