এবার কানে টপ মডেলের পুরস্কার উঠল বাংলাদেশের প্রিয়তির হাতে

0
43

৭৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে টপ মডেল নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের মেয়ে মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবের একটি আলাদা প্যাভিলিয়ন থেকে মাকসুদা আক্তার প্রিয়তির হাতে উঠেছে টপ মডেলের অ্যাওয়ার্ড। ইনটিগ্রিটি ম্যাগাজিন আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বের নানা প্রান্তের মডেলরা। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে সেরার অ্যাওয়ার্ড উঠেছে প্রিয়তির হাতে।

পুরস্কারটি স্বপ্নের মতোই ছিল প্রিয়তির কাছে। যেন স্বপ্ন এসে ধরা দিল প্রিয়তির হাতে। প্রথম ধাক্কায় নিজের অনুভূতি জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘আমি এতটাই আবেগে আপ্লুত হয়ে আছি যে কথা বলে অনুভূতি প্রকাশ করা তো দূরের কথা, কিছু লিখেও অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না। কানের মাটিতে টপ মডেল অ্যাওয়ার্ড পাওয়া…সব স্বপ্নের মতো লাগছে।’ এরপর নিজের এই অর্জন ভাগ করে নিয়েছেন অন্যদের সঙ্গে। বলেছেন, এই পুরস্কার তাঁর একার নয়। তাঁর ফ্যাশন ডিজাইনার, মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ারস্টাইলিস্ট আর অন্য প্রতিযোগীদের, যাঁরা ইভেন্টটিতে অংশ নিয়ে আলোকিত করেছেন।

প্রিয়তির ছেলেবেলার একটা বড় অংশ কেটেছে বাংলাদেশে। কৈশরে পা রাখার সময় তিনি উড়ে যান আয়ারল্যান্ড। সেখানেই মডেল হিসেবে গড়েন সফল ক্যারিয়ার। তিনি মিস অয়ারল্যান্ড ও মিস আর্থ ইন্টারন্যাশনাল টাইটেল জিতেছেন।

এ ছাড়া তিনি পেশাদার পাইলট, দুই সন্তানের মা ও বাংলাদেশ সেক্যুলার ফাউন্ডেশনের এম্বাসেডর। অভিনয়ও বাদ নেই। ‘কণ্টকশয্যা’ নামে একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। ক্যারিয়ার নিয়ে আকাশে উড়লেও নিজের দেশ আর শিকড়কে কখনো ভোলেননি প্রিয়তি।

২০১৬ সালে চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘আমি পেশায় পাইলট। বিমান নিয়ে অসীম আকাশে উড়তে উড়তে মনে হলো, আকাশ তো দেখা হলো। এবার তার ওপরে যাই না কেন? সে জন্য মিস আর্থের মতো হাইপ্রোফাইল প্রতিযোগিতায় অংশ নিই এবং আপনাদের মেয়ে আমি প্রথম রানারআপ হই। এখন মিস আর্থ ইন্টারন্যাশনাল-২০১৬ হয়েছি। এগুলো সব হয়েছে আমার জেদের কারণে। আমার জেদ এত দূর নিয়ে এসেছে।’

ওই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেছিলেন যে তিনি যখন প্রথম মিস আয়ারল্যান্ড প্রতিযোগিতায় যান, তখন তাঁর স্পনসর ছিল না। নিজের টাকা নিজেকে জোগাড় করতে হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছিলেন, সাহায্য পাননি। তবু তিনি হতাশ হননি। আশা ছাড়েননি। মিস আয়ারল্যান্ডের মুকুট শোভা পেয়েছে তাঁর মাথায়। তিনি সব সময় স্বপ্ন দেখেছিলেন জেগে জেগে। তার সঙ্গে ছিল চেষ্টা, শ্রম ও লেগে থাকা। এভাবেই একের পর এক সফলতা উঁকি দিয়ছে প্রিয়ন্তির জানলায়। তারই সর্বশেষ সংস্করণ কানের এই টপ মডেল অ্যাওয়ার্ড।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY