সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা বারবার দেখা প্রয়োজন: মার্টিন স্করসেসি

0
30

আকিরা কুরোসাওয়া ও সত্যজিৎ রায় লিখে সার্চ করলে বেশ কিছু ছবি ভেসে উঠবে। সিনেমা নিয়ে এ দুই মহারথীর বেশ আলাপ ছিল। শুধু কুরোসাওয়া কেন, সুইডিশ জাঁদরেল চলচ্চিত্রকার ইঙ্গমার বার্গম্যানের সঙ্গেও আলাপ ছিল রায়ের। একালের নামকরা চলচ্চিত্রকার মার্টিন স্করসেসির সঙ্গে সত্যজিতের দেখা হয়েছে কি না, জানা নেই। তবে সত্যজিতের সিনেমা নিয়ে নিজের অনুভূতি জানালেন এই পণ্ডিত চলচ্চিত্রকার। তাঁর মতে, সত্যজিৎ রায় এমন চলচ্চিত্রকার, যাঁর সিনেমা বারবার দেখা প্রয়োজন।

এ বছর সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবার্ষিকী। গত বছর ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে লিখেছেন হলিউডের নামকরা পরিচালক মার্টিন স্করসেসি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘যদি সংক্ষিপ্ত করেও সিনেমার ইতিহাসকে দেখা হয়, তবে সত্যজিৎ রায় এমন একজন পরিচালক, যাঁকে আমাদের জানা প্রয়োজন, যাঁর সিনেমা আমাদের দেখা দরকার। বারবার দেখা দরকার, আর আমি দেখিও।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দর্শকদের ভারতীয় জীবনযাপন যেভাবে সত্যজিৎ দেখিয়েছেন, তার প্রশংসা করেছেন স্করসেসি। তাঁর মতে, এর আগে ভারতকে কেবল ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে দর্শকের সামনে। স্করসেসি লিখেছেন, ‘আমাদের কাছে মানে, পশ্চিমে, ‘অপু ট্রিলজি—“পথের পাঁচালী”, “অপরাজিত” ও “অপুর সংসার” ছিল মাইলফলক। আমরা আসলে ভারতকে রুপালি পর্দায় ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপটে দেখতে অভ্যস্ত। সেসব ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে একজন পশ্চিমা অভিনেতা থাকেন। এক্সট্রা শিল্পী হিসেবে নেওয়া হতো ভারতীয়দের, যাঁদের ব্যবহার করা হতো ভারতীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে। আমাদের কোনো ধারণা ছিল না, সেটা ভারতের ঠিক কোন জায়গার ঘটনা—গুজরাট, কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ নাকি মহারাষ্ট্রের। আমরা বুঝতাম এটি কেবলই ভারত।’

সত্যজিৎ রায়ের ছবি বানানোর প্রক্রিয়ারও প্রশংসা করেন স্করসেসি। তিনি লেখেন, ‘এই ছবি প্রাত্যহিক জীবনকে দেখিয়েছে, যা ইতালির নব্য বাস্তববাদের সঙ্গে মিলে যায়। আর শিল্প বা নির্মাণ? এটা তো আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তাঁর কাজ ছিল কাব্যিক, অকপট, সুদূরপ্রসারী এবং সেসবে ডুবে যাওয়ার মতো।’

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের একটি সিনেমা হলে বসে সত্যজিতের তিনটি ছবি একসঙ্গে দেখেছেন স্করসেসি। প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ। অপুর ক্লোজআপ শটে অসাধারণ চাহনি আর রবিশঙ্করের অসাধারণ মিউজিকের মিশেল যেন সিনেমা হলে আমার অমূল্য মুহূর্তগুলোর একটি। একজন চলচ্চিত্রকার হিসেবে এটা আমার ওপর গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখেছিল।’ তিনি আরও লিখেছেন, অপু ট্রিলজি ছিল সিনেমার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের সূচনা। সত্যজিৎকে সিনেমার অমূল্য সম্পদ বলেও আখ্যায়িত করেছেন এই চলচ্চিত্রকার।

গত ২ মে ছিল সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন। ১৯২১ সালের ২ মে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এ বছর তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছে বাঙালি। এ উপলক্ষে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, সারা বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সত্যজিতের জন্মশতবর্ষ উদযাপিত হবে। সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, এই লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতার ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভারত ও বিদেশে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে তারা। এতে জানানো হয়, মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রতিটি অনুষ্ঠান ডিজিটালি ও সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর থেকে ‘সত্যজিৎ রায় লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন সিনেমা’ পুরস্কার দেওয়া হবে ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব মঞ্চ থেকে। শুধু তা–ই নয়, ৭৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্মরণ করা হবে সত্যজিৎ রায়কে। তাঁর বিভিন্ন ছবি নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করা হবে। মুম্বাইয়ের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইন্ডিয়ান সিনেমায় এবার থেকে একটি বিশেষ প্রদর্শনী থাকবে সত্যজিৎ রায়ের জীবন ও কাজের ওপর।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY