সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার চান মেয়র তাপস

0
20

নিউজ ডেস্ক: সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার আবেদন অতি উৎসাহী কিছু ব্যক্তি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। মামলার আবেদন প্রত্যাহার করতে আবেদনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরভবনে সাকরাইন (ঘুড়ি উৎসব) নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই মন্তব্য করে মামলার আবেদন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান মেয়র তাপস।

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র তাপস বলেন, গতকাল যে দুটি মামলার আবেদন হয়েছে, তার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। সেগুলো অতি উৎসাহী কিছু ব্যক্তি তাঁর অনুমতি ছাড়াই করেছেন। তিনি আশা করেন, তাঁরা এই মামলাগুলো প্রত্যাহার করবেন।

সাঈদ খোকনের বক্তব্যকে মানহানিকর উল্লেখ করে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা গতকাল সোমবার সকালে সাংবাদিকদের বলেছিলেন মেয়র তাপস। এর দুই ঘণ্টা পর জানা যায়, সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুই ব্যক্তি ঢাকার আদালতে মানহানির মামলার আবেদন করেছেন। তার কিছু সময় পর এক বিবৃতিতে মেয়র তাপসের মানসম্মানের ‘বাজারমূল্য’ কত, তা জানতে চেয়ে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি ও অডিও বার্তা পাঠান সাঈদ খোকন।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারোয়ার আলম এবং কাজী আনিসুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

সাঈদ খোকনের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রসঙ্গে মেয়র তাপস বলেন, ‘এটা আসলে হাস্যকর হয়ে গেছে। এ বিষয়ে কথা বলা সমীচীন নয়। কারণ, আমি একটি দায়িত্বশীল পদে রয়েছি।’

মেয়র তাপস আরও বলেন, অনেকে অনেক রকম মন্তব্য করতে পারেন। দায়িত্বশীল পদে যিনি থাকেন, তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য আসতে পারে। সব মন্তব্য তো আর গুরুত্ব বহন করে না। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্য করাও সমীচীন না।

তাহলে কি আর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, এমন প্রশ্নে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র বলেন, ‘সাবেক মেয়র আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রোশের বশবর্তী হয়ে যে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা মানহানিকর হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এটা আমি গতকাল উল্লেখ করেছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পর্যালোচনা করছি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনবোধ করলে মামলা হতে পারে। সেটাই আমি গতকাল বলেছি।’

মধুমতি ব্যাংকে সিটি করপোরেশনের টাকা হস্তান্তর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র তাপস বলেন, মধুমতি ব্যাংকে টাকা হস্তান্তর নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর। মধুমতি ব্যাংক সাত বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের আগেও মধুমতি ব্যাংকের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবসায়িক বা সেবামূলক লেনদেন ছিল। আমানত হিসেবে দক্ষিণ সিটির অর্থ মধুমতি ব্যাংকে ছিল, এখনো আছে।

এ প্রসঙ্গে মেয়র তাপস আরও বলেন, আইনবহির্ভূতভাবে কোনো কিছু হয়েছে, এমনটা কেউ দেখাতে পারবেন না। এ ব্যাপারে তিনি সাঈদ খোকনসহ সবাইকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র বলেন, ‘গত ছয় মাসে যে বাজেট দিয়েছিলাম, আমরা রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আহরণ করতে পেরেছি। এই করোনা মহামারির মধ্যে ৩৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করেছে সিটি করপোরেশন। আমরা যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা ব্যস্ত রয়েছি। আমাদের অনেক কাজ রয়েছে। আমাদের আরও কাজ করার সুযোগ দেবেন। ভুল হলে সেগুলো আমাদের দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত-অনভিপ্রেত বিষয় নিয়ে সময়ক্ষেপণ করার সময় নেই।’

অবৈধ দোকান যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে মেয়র তাপস বলেন, তাঁদের অভিযান অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযান ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক ও বর্তমান মেয়রের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের শুরু ৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন থেকে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন দুটি মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের পুনর্বাসনের দাবিতে ওই মানববন্ধনে মেয়র তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, গলাবাজি করাসহ নানা অভিযোগ তোলেন সাঈদ খোকন। পরদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই বক্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ বলে উল্লেখ করেন তাপস।

সম্প্রতি সাঈদ খোকন অভিযোগ করেন, তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তাঁর নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন এবং এই শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসেবে গ্রহণ করছেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ সিটির নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাননি সাঈদ খোকন। পরে তাঁকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY